কারবালায় হুসাইন (রা) এর শাহাদাতের সাথে আশুরার সম্পর্ক কি? - What is the relationship between Ashura and the martyrdom of Hussain (RA) in Karbala?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হল: আশুরার তাৎপর্যের সাথে কারবালায় হুসাইন (রা) এর শাহাদাতের হৃদয়বিদারক ঘটনার কোনই সম্পর্ক নেই। কেননা কারবালার ঘটনা সংঘঠিত হয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর, আর মুসলিমদের মধ্যে আশুরা পালন শুরু হয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মদিনায় আসার পর পরই এবং ইয়াহুদিরা এই আশুরা তারও বহু আগে থেকে পালন করত।
এটা খুবই সত্যি যে কারবালায় হুসাইন (রা) এর শাহাদাত অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। কিন্তু আশুরার তাৎপর্য কারবালায় হুসাইন (রা) এর শাহাদাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটি একটি কাকতালীয় ব্যাপার যে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আশুরার দিনেই সংঘঠিত হয়েছিল। এই ঘটনাটি অন্য কোন দিন বা অন্য কোন মাসে ঘটতে পারত। সেক্ষেত্রে যারা বিশ্বাস করেন কারবালার ঘটনার কারণেই আশুরা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের কাছে একটি খুবই সহজ প্রশ্ন, যদি কারবালার এই ঘটনা অন্য কোন দিন বা অন্য কোন মাসে ঘটত, তবে কি মুসলিমরা ১০ মুহাররম আশুরা পালন করত না? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১০ মুহাররম সিয়ামের মাধ্যমে আশুরা পালন করতেন।
তাছাড়া এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে একমাত্র নয়। এই ধরনের আরো অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায়। যেমন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রাণপ্রিয় চাচা হামজা (রা) কে যুদ্ধের ময়দানে শহীদ করে তাঁর কলিজাকে চিবিয়ে খাওয়া এবং তাঁর কলিজা দিয়ে মালা বানানো।
সুতরাং বোঝা গেল হুসাইন (রা) এর শাহাদাতের কারণে আশুরা তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং আশুরার এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে হুসাইন (রা) এর শাহাদাত তাঁর মর্যদাকে হয়ত বৃদ্ধি করেছে।
1. তবে কি কারবালার শোক দিবস আমরা পালন করব না?
এর উত্তর হল: না। কেননা ইসলামে শোক দিবস পালনের কোন বৈধতা নেই। ইসলামের ইতিহাসে এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা পাওয়া যায় যা পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। তাছাড়াও হযরত হুসাইন (রা) এর চেয়েও মর্যদায় অনেক বড় সাহাবারাও (যেমন হুসাইন (রা) এর বাবা আলী (রা), ওমর ফারুক (রা), উসমান (রা) সহ আরো অনেক) শহীদ হয়েছেন। কিন্তু এদের কারো শাহাদাত দিবসে কেউ শোক দিবস পালন করেননি, এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রাণপ্রিয় চাচা হামযা (রা) এর শাহাদাতের পরবর্তী বৎসরগুলিতেও এরকম কোন শোক পালন করেননি। যেই হুসাইন (রা) এর শাহাদাতের শোক বিভ্রান্ত শিয়াগণ করে, সেই হুসাইন (রা) তাঁর জীবদ্দশায় কোন দিন তাঁর বাবার শাহাদাত দিবসে শোক পালন করেননি, ইসলামের মহান দুই খলিফা ওমর ফারুক (রা), উসমান (রা) এর শাহাদাত দিবসে শোক পালন করেননি। অর্থাৎ কারো শাহাদাত দিবসে শোক পালন করা কোন সাহাবার সুন্নাত নয়, বরং ভ্রান্ত বিদআত।
তাছাড়া সহীহ্ হাদীস মতে ইসলামী শরীয়ায় কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক পালন বৈধ নয়। শুধুমাত্র স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।
উম্মু ‘আতিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ স্বামী ছাড়া আর কোন মৃতের জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করতে আমাদের মেয়েদের নিষেধ করা হয়েছে।
তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক করার নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, এই সময় (চার মাস দশ দিনের মধ্যে) আমরা যেন সুরমা না লাগাই, খোশবু ব্যবহার না করি এবং রঙিন কাপড় পরিধান না করি। তবে মহিলাদের জন্য এতটুকু অনুমতি আছে যে, আমরা কেউ যখন গোসল করে হায়েজ থেকে পবিত্র হবো, তখন কু এবং আযফার জাতীয় খোশবু কিছু পরিমাণে ব্যবহার করতে পারব। (মুসলিম, আস-সহীহ্, কিতাবুত ত্বলাক্ব/ বুখারী, আস-সহীহ্, কিতাবুত ত্বলাক্ব)
2. তাজিয়া মিছিল, মাতম করা, শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা
কারবালার শোক উপলক্ষে “হায় হুসেন”, “হায় হুসেন” বলে মাতম করা, শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা সম্পূর্ণ হারাম এবং জঘণ্য বিদআত। যারা এই সকল কাজ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উম্মত হিসাবে অস্বীকার করেছেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শোকে মূহ্যমান হয়ে গাল চাপড়ায়, আঁচল বা জামা ছিঁড়ে এবং জাহিলী যুগের ন্যায় কথাবার্তা বলে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। (মুসলিম, আস-সহীহ্, কিতাবুল ঈমান)
পথভ্রষ্ট শিয়াদের এসকল কাজে সাহায্য করা, আনন্দ ফুর্তির জন্য এতে শরীক হওয়া কবিরাহ্ গুণাহ্।
